পাসপোর্টে বিড়ম্বনা

বিড়ম্বনার গল্প শুরু করছি ধন্যবাদ দিয়ে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। অঞ্চলভেদে পাসপোটের্র জোন ভাগ করে দেয়ার জন্য। দুইটি রিনিউ আর দুইটি নতুন পাসপোর্ট করতে আমার সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা আর কিছু মিনিট। ছিল না কোন ভিড়। ছিলনা ধাক্কাধাক্কি। আমি অন্তত দালালের দেখা পাইনি। কিন্তু পাসপোটের্র মত কাজ যার ফর্ম ফিল আপ করার ব্যবস্থা সরকার অনলাইনেও রেখেছেন কেন জানি আমি তা করতে পারি নি। ফর্ম পার্শিয়ালি ফিল আপ করার পর পাসওয়ার্ড দিয়ে আর ঢুকতে পারছিলাম না। আমি তাই ফর্ম প্রিন্ট করে কাগজেই কাজ সারলাম। স্টুডিওর মানুষ পরামর্শ দেয় এই করতে হবে, অনেকে নিজের মত করে পরামর্শ দেয় সেই করতে হবে। কিন্তু আমি কাগজে লেখা নির্দেশ ফলো করে পাসপোর্ট জমা দিয়ে আসলাম। সবই ভাল ছিল। ভোগান্তিতে পড়লাম ভেরিফিকেশানে। দায়িত্বরত অফিসার ফোন করে […]

স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাওয়ার কাহন

ফার্মগেট অফিস থেকে কারওয়ান বাজার মোড় হয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম। রাত তখন ১১টার কাছাকাছি হবে। কারওয়ান বাজার সিগনালের কাছে ৫-৬ জন ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুকে দেখলাম রাস্তায় ফুল বিক্রি করছে । কারো কারো হাতে রঙ্গিন বেলুন। গাড়ি সিগনালে থামলেই দৌড়ে গিয়ে গাড়ির জানালায় কেউ ফুল, কেউ বেলুন কেনার জন্য অনুরোধ করছে। এমন দৃশ্য প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়লেও , আজ ওদেরকে জানতে ইচ্ছে করছে। ওরা কারা? কোথায় থাকে? কোথা থেকে এসেছে? ওরা কী আমাদের সমাজেরই কেউ? এই ছোট্ট বয়সেতো ওদের স্কুলে পড়াশোনার কথা ছিল। নিরাপদে মায়ের আঁঁচলের তলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আজ ওরা রাস্তায় কেন? কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ওদের একজনের থেকে ফুল কেনার অজুহাতে আলাপ জমাতে শুরু করলাম। ওর নাম রাশেদ। বয়স ১১ বছর, কালো চেহারায় এক অদ্ভুত মায়া। […]

ধোঁয়া আগুনের রেস্টুরেন্টে আবিরের বন্দী জীবন

ধানমন্ডি ১৫ স্টাফ কোয়ার্টারের দিকে এগোতেই চোখে পড়ে অনেক গুলো ছোট রেস্টুরেন্ট। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার এবং সন্ধায় হালকা ক্ষিদে মেটাবার জন্য পুরি, পেঁয়াজু, আলুর চপসহ নানা খাবার পরিবেশন করে থাকেন এই রেস্টুরেন্টগুলো। ঠিক এমনই এক রেস্টুরেন্টে কাজ করে সাধা-সিধে আবির নামের একটি ছেলে। কাজ আর ক্লান্তিরও ফাঁকে গুনগুনিয়ে গান ধরা তার প্রতিদিনের অভ্যাস। এই রেস্টুরেন্টেই সকাল ৭টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করে সে। হাড়ভাঙ্গা খাটুনির ফাঁকেই সে গুন গুনিয়ে আওয়াজ তোলে তার কন্ঠে। ঠিক সেই আওয়াজই কানে বাজে অনেকের। হয়তো আগ বাড়িয়ে কেউ নামটা জিজ্ঞেস করে অথবা কেউ অবজ্ঞার সুরে ভ্রক্ষেপ ও করেন না। গায়ে ছেড়া একটা গেঞ্জি পরনে ময়লা লুঙ্গি। কিন্তু কথায় মাধুর্যতা যেন উপচে পড়ে আবিরের। যে কারোরই দেখে মনে হবে সাধা সিধে […]

দূর্ঘটনার পরেও জীবন যুদ্ধে হারেনি মাহবুব

মাহবুব সৌদি আরবে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়। কাঠ কাটার মেশিংয়ে তার দু’টি আঙ্গুল কেটে যায়। দূঘর্টনায় তার প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। টাকার সাথে ব্যয় প্রায় ১টি বছর। মাহবুবের জীবন যুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম। সালটি ছিল ২০০৭। তখন মাহবুব বেকার হিসেবে চারদিক ঘুরতেন। বাবা একজন রাজমিস্ত্রী। মাহবুব সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিলো ৮ জনের। কিন্তু আয়ের উৎস শুধু বাবাই ছিলো। মাহবুব সবে মাত্র বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজ থেকে ডিগ্রী পরীক্ষা দিয়েছে। তখনো কোন কাজ করতেন না। মাহবুবের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামে। বাবার কাজের টাকা দিয়ে কোন রকম চলছে তাদের সংসার। এরই মধ্যে মা অসুস্থ হয়ে পরেছেন। তার এক দূর সম্পর্কের এক মামা থাকে সৌদি আরবে। কোন কাজ না পাওয়া সে বিদেশে যাবার বায়না ধরে। […]

কড়াইল বস্তিতে দাবা ক্লাব

  মনিকা আর জিয়া দাবা খেলছেন। মনিকা শূন্য চাললেন। জিয়া চিন্তা মগ্ন। ভাবছে কি চালবে। সেও শূন্য চাললেন। মনিকা হাতি বাহির করলেন। জিয়া শূন্য দিয়ে সেই হাতিকে কাটলেন। তখন মনিকা মন বেজার করে বসে ভাবতে থাকলো। কী আর করার উপায় না পেয়ে সেও হাতি কাটলেন। জিয়া ঘোড়া দিয়ে ঘোড়া কাটলো আর মনিকা হাতি দিয়ে ঘোড়া কাটলেন। জিয়া উচ্চ কন্ঠে বলে উঠলেন ‘আমি তোর গুটি খামো’। বলেই সে মন্ত্রীটি কাটে। দুই জনই গুটি দিয়ে কাটাকাটির চিন্তা আছে। তাদের মধ্যে চলছে তুমুল খেলা। তাদের পাশের খেলছে রহিম বাদশা ও তানিয়া আক্তার ফারজানা। তারা সকলে কড়াইল বস্তির শিশু শিক্ষার্থী। তারা কড়াইল বস্তির ব্র্যাক স্কুলের পড়েন। গুলশান-বনানীর পাশে গড়ে উঠা কড়াইল বস্তিতে তাদেরকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবা ক্লাবটি। জিয়া মোরশেদুল একজন শিক্ষার্থী। […]

আনন্দ যখন বানিজ্যিক

মানুষের মন পাখির মতো। মানুষ পাখির মতো ওড়ে বেড়ায়, ঘুরে বেড়ায় দুর থেকে থেকে। তাই প্রতিটি মানুষ পর্যটকমন নিয়েই জন্মায়। কথাগুলো আহমদ ছফার। পুষ্প ও বিহঙ্গপুরাণে। এই যে ভ্রমণ মানে ট্যুরের মতো একটা সুন্দর বিষয়কে নিয়েও ব্যবসা চলছে আজকাল চারপাশে! শুধু ব্যবসা না, বিনা পুজিঁতেই বেশ রমরমা ব্যবসা! ৬ মাস আগেও যারা ট্যুরে যাবার আগে এর-ওর কাছ থেকে তথ্য জেনে পরিকল্পনা করে কোথাও ঘুরতে যেত। আজ ফেইসবুকে “ট্যুর গ্রুপ” খুলে নিজে এডমিন হয়ে যাচ্ছে! কদিন পর পর এখানে-সেখানে ট্যুরের ইভেন্ট খুলে গ্রুপ নিয়ে ঘুরতে চলে যাচ্ছে! আর মেম্বারদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে প্রায় দিগুণ! যেখানে ৩ দিনের একটা ট্যুরে বেশি হলে খরচ ৩,৫০০ টাকা। সেখানে মেম্বারদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৫,৩০০ টাকা! বাড়তি ১৮০০ টাকা? এডমিনের লাভ একজন মেম্বার থেকে […]

গণপরিবহণ যেন আয়না

আগে বাসে বা যানবাহনে লেখা থাকত, ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’, ‘সদা সত্য কথা বলিবে’, ‘মিথ্যা বলা মহাপাপ’, ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি’, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। এখন আর এগুলো নেই। এখন দেখি, ‘হাফ পাশ নাই’, ‘১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ভাংতি নাই’, ‘ইহা ছয়জনের সিট’। প্রতিদিন বাসে বা লেগুনায় ভার্সিটিতে যাই। মাঝেমাঝে রেসলিংয়ের রেফারির ভূমিকা পালন করতে হয়। এমন একটা দিন নেই, কন্ডাক্টরের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া হয় না। যাত্রী বলে, ‘আমি স্টুডেন্ট। হাফ ভাড়া।’ কন্ডাক্টর বলে, ‘স্টুডেন্ট তো তাইলে পড়তে পারেন। পড়েন না, কী লেখা আছে?’ আগ বাড়িয়ে মাঝে মাঝে সমাধান করি। কিন্তু হাল আমলে সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযান শুরুর পর ঝগড়া বেড়েছে। যাত্রীরা এখন কিলোমিটার হিসেবে টাকা দিতে চায়। কন্ডাক্টর চায় আগের ভাড়া। হায়রে কী ঝগড়া! আমি প্রতিদিন বাসে […]

পুরো শহরটাই যেন পাবলিক টয়লেট

বিশ্বের বুকে অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকা। ঢাকা শহরে নানা কাজে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাস্্তায় চলাচল করতে হয়। অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, মিল-কল-কারখানা ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে মানুষকে সকাল থেকে রাত অবধি রাস্তায় অবস্থান করতে হয়। এই বিপুল সংখ্যক নাগরিকের জন্য নেই পর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা। সকালে অফিস সময় থেকে শুরু হয় অসহনীয় যানজট– সমস্ত শহর জুড়ে। এই যানজটে পড়ে দীর্ঘসময় আটকে থাকার সময় বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। পাবলিক টয়লেটের অপ্রতুলতা এই দুর্ভোগকে আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি একটি ভয়াবহ সমস্যা। রাজধানীর ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, টেকনিক্যাল, গাবতলী, উত্তরা, মহাখালীসহ অন্যান্য স্থানে সরেজমিনে ঘুরে পাবলিক টয়লেটের অপ্রতুলতার বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে আসে। পাবলিক টয়লেট না থাকায় যে কোন দেয়ালের […]

বাংলাদেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা

পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় পাটজাত পণ্যও বাংলাদেশের সোনালী পণ্য হিসেবে ক্রমশই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পাটজাত পণ্য উৎপাদনে সারা বাংলাদেশেই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে পাটজাত পণ্য তৈরি ও সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। রংপুরসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। যা পাট ও পাটজাত শিল্পকে একটা নতুন মাত্রা দিয়েছে। শুধু রংপুরই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় এমনিভাবে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারখানা গড়ে উঠেছে। দেশে বর্তমানে পাট দিয়ে মোটামুটি সব ধরনের পণ্যই উৎপাদন হচ্ছে। নিজ উদ্যোগে অথবা সরকারী-বেসরকারী কিছু সংস্থা বা এসএমই-র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়েও উত্তরাঞ্চলের মহিলারা নানা রকম পণ্য উৎপাদন করছে। বস্ত্র, সুতা, কার্পেটের মতো পণ্যের বাইরেও সোনালি আঁশ পাট দিয়ে […]

মেয়েদের টয়লেট প্লেসের সমস্যা

৭০০ একর ভূমির ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়(জাবি)। বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা ৪৯% কোটা সংরক্ষিত। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক প্লেসে মেয়েদের জন্য নেই আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা। জাবির পাবলিক প্লেসগুলোর মধ্যে টিএসসি, ট্রান্সপোর্ট ও বটতলা অন্যতম। গুরুত্বপূর্ণ এই জনবহুল স্থানগুলোতে মেয়েদের জন্য কোন পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। ফলে মেয়েদেরকে এজন্য বিভিন্ন সময় অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। যেমন একজন মেয়ে বাথরুমে সামনে একজন ছেলে বাথরুম নক করছে। প্রথমেই আসা যাক টিএসসিতে। এখানে ক্যাফেটেরিয়া ও মুক্তমঞ্চ থাকার কারণে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। টিএসসিতে মোট আটটি টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য উন্মুক্ত দুটি টয়লেট। এর মধ্যে একটির দরজা ভাঙ্গা যা ব্যবহারের অনুপযোগী। আর বাকি ছয়টির ২টি প্রক্টরদের জন্য, ২টি বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের জন্য, আর অন্য ২টি (নেম প্লেটে মেয়েদের জন্য ) […]