মানুষের পাশে দাড়ানোই তাদের কাজ

চাঁদপুর হাসান আলী স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র সজীব ও রায়হান। পাশাপাশি তারা স্কুলের রোবার স্কাউটের সদস্য। এ রোবার স্কাউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন পড়াশুনার পাশাপাশি কিছু সময় মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। এইতো সেদিন ইদ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলার নৌ ঘাঁট দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে চোখে পড়লো, গায়ে আকাশী রংয়ের শার্ট, গলায় ট্রাই মুখে বাশিঁ আর নীল রংয়ের প্যান্ট পড়া কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে। লঞ্চ থেকে নামা মানুষদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে। এ যেমন মানুষদের সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া, কোথাও জ্যাম বাঁধলে সে জ্যাম দূর করা। এছাড়াও মানুষ যাতে পকেটমার, মলম পার্টি ইত্যাদি থেকে নির্বিঘ্ন বাড়ি পৌঁছতে পারে সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা। তাদের দুজনের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেল। তারা আরও জানান, তারা দুজনই নয়। তাদের মত […]

আবিরের স্বপ্ন যেন মুছে না যায়

যাদের  ঘরে  একজন  প্রতিবন্ধী  আছে ,  তাদের  কি  যে  কষ্ট  তা  স্বচক্ষে  না দেখলে  বোঝা যায়  না । আর  ঐ  পরিবারটি  যদি  থাকে  হতদরিদ্র  তাহলে  কষ্টটা আরো  বহুগুনে  বেড়ে  যায় । মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা গাঁড়াডোব  গ্রামের বাশার মিয়ার একটি ছেলে  সন্তান জন্ম প্রতিবন্ধী। ছেলেটির নাম আবির হাসান। আবির জন্ম প্রতিবন্ধি হলেও তার মা,বাবা তাকে কখনো  অবহেলা করে না। পরম মমতাই যত্ন করে জান তাকে। আবিরের বাবা হতদরিদ্র দিনমজুর। আবির প্রতিবন্ধি হয়েও সরকারী কোন আনুদান পায় না। আবিরের মা,  বাবা তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য অনেক টাকা  ব্যয়  করেছেন। বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ এর কাছে গেছেন, ছেলেকে সুস্থ করার জন্য। আবিরের মা,বাবা সপ্ন দেখে যে আর পাঁচটা  ছেলের মতো সে সাভাবিক ভাবে চলাফেরা করুক।কিন্তু অাবির এখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি […]

ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না

প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যকে কে না ভালবাসে ? ইট -পাথরের শহর থেকে নাগরিক ব্যস্ততার অবসরে মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতিরই কাছে । প্রকৃতি যদি ফুলের সমাহারে পরিবেষ্টিত হয় তবে তো কথাই নেই । যেন ফুলের গন্ধে ঘুম আসবে না ।এমন  এক সৌন্দর্যমন্ডিত নানা রঙের রংধনুর মত চাদর বিছানো মাঠের নাম গদখালির পানিসারা গ্রাম। যা ফুলের রাজধানি বা ফুলের স্বর্গরাজ্য  হিসেবেই পরিচিত।তবে তা সখের বসে তৈরি করা বাসা বাড়ির আঙ্গিনার ফুলের বাগান নয়। না অন্য কোন দেশে নয়(কাশ্মীরের টিঊলিইপ বাগান নয়) আমাদের এই ছোট দেশেই অবস্থিত।যশোর শহর থেকে প্রায় ২৫-৩০কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিমে্র দুটি থানা ঝিকরগাছা ও শার্শা। এ দুটি থানার ৬টি ইউনিওনের ৯০টি গ্রামের প্রায় ৪হাজার বিঘা জমিতে এই ফুলের চাষ।মাঠের পর মাঠ যতদুর চোখ যাবে দিগন্তের সাথে মিশে যাবে ফুলের সমারোহ।লাল,নীল,হলুদ্‌,গোলাপী,কমলা […]

ঘুরে দাড়িয়েছেন জাহানারা

তার নাম  জাহানারা। ময়মনসিংহ জেলায় বাড়ি তার।প্রায় ত্রিশ বছর আগে অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্বপরিবারে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট পরিবার তার। সাভারের ইসলামনগরে গড়ে তোলেন তার সুখের নিবাস। তার স্বামী রিকশা ভাড়া নিয়ে চালানো শুরু করেন। আর জাহানারা তার মেয়েদের দেখাশোনা আর ঘর সামলানোয় ব্যস্ত থাকতেন। স্বল্প আয়ে ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ তাদের এই সুখে ছেদ ঘটে। এক দূর্ঘটনায় তার স্বামী পায়ে মারাত্মক আঘাত পান। সারা জীবনের জন্য রিকশা চালানোর ক্ষমতা হারায় তিনি। ফলে ঘরকন্না ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে হয় জাহানারাকে। তিনি জানতেন  না কিভাবে তার সংসারের ব্যয় বহন হবে। অন্যদিকে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা। এই কঠিন অবস্থায় ভেঙে পড়েননি জাহানারা। সামান্য কিছু পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ফলের ব্যবসা। পথের ধারে একটা […]

কালা’র অন্ধকার

লোকটির কি নাম সেটি সে বললে কেউ বোঝে না । কন্ঠে রয়েছে জড়তা ।  অস্পষ্টতা। তবে লোকজন তাকে কালা মিয়া ডাকে। তিনি  প্রতিদিন শুয়ে থাকেন সাভারের সিটিসেন্টার মার্কেটের সামনে।কখনো দাড়িয়ে মানুষের কাছে হাত পাতেন। ক্লান্ত হলে টাকার পাশে মাথা রেখে শুয়ে পড়েন।রোদেরপ্রখরতা কিংবা বৃষ্টি যাই হোক না কেন তিনি একই জায়গায় ভিক্ষা করেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। তার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলাম কি নাম? ছেলে মেয়ে আছে কিনা? গ্রামের বাড়ি কোথায়? তিনি ভালো করে কথা বলতে পারেন না।কথা বলার সময় তার মুখ বাকিঁয়ে যায় তাই কথা বোঝা যায় না।এভাবেই তাকে কথা বলতে দেখলে নিজেরই কষ্ট হয়।অনেক্ষন চেষ্টা করার পর যতুটুকু বুঝেছি আর পাশের লোকজনের থেকে শুনেছি তার সারাংশ হলো,  তার বাড়ি মানিকগঞ্জ।চার ছেলে। মেয়ে ছিল বিয়ে দিয়েছে।  ছেলেরা যে যার […]

মেঘের মতো ভাসমান ওরা

ওরা সাত-আটজন বন্ধু। একজন শুধু মেয়ে।ওরা মেঘের মতো যেন ভাসমান । মহা সড়কের পাশে যাত্রী-ছাউনিতে, কখনো রস্তার পাশে ওদের বসবাস। রাস্তার পাশেই থাকা, রাতের ঘুমও এখানেই।ওরা বিভিন্ন দরিদ্র পরিবার থেকে এখানে এসেছে। বাবা-মার কোন খোঁজ নেই।নেই কোন পরিবারের সন্ধান। সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরেফিরে মানুষের কাছে হাত পাতে। কখনো কেউ একটু খাবার দিলে তা ভাগ করে খেয়ে নেয়।মাঝে মাঝে ভাঙ্গা প্লাস্টিক বা পুরনো জিনিস সংগ্রহ করে কিন্তু নিয়মিত নয়। হোটেলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। আর কউকে কিছু খেতে দেখলে বলে মামা একটু খাবার দেন। পাঁচটা টাকা দেন কিছু খাব। কোন সময় কেউ একটা খাবারের প্যাকেট দিলে ওরা ভাগ করে খায়। যে প্রথমে খাবারটি পায় ও নিজে মাখায়ে অন্যদের এক লোকমা-দুলোকমা করে মুখে তুলে দেয়।কখনো বেশি খিদে পেলে খাবারের প্যাকেট নিয়ে  মারামারি […]

‘বিনামূল্যের ফরম কিনতে হলো টাকা দিয়ে’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মওদুদ আহমেদ সুজন। গত ৩ সেপ্টেম্বর রোববার বেনাপোলের  সীমান্ত দিয়ে ভারত যাওয়ার সময় যেসব ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ‘দেশগড়ির’ সাথে আলাপকালে তা তিনি এভাবেই বর্ননা করেছেন ——   রোববার তখন সকাল প্রায় নয়টা। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই বহির্গমন ফরম নিয়ে একজন হাজির। যে ফরমটা বিনামূল্যে পাবার কথা সে ফরমটা হাতে পেতে এবং পূরণ করতে একজন মধ্যস্বত্ত্বভোগীকে ১০ টাকা দিতে হলো।   এরপর একটু সামনে যেতেই কাউন্টারে নব নির্মিত টার্মিনাল ফি বাবদ ৪০ টাকা দাবি করলো। দিলাম ৪০ টাকা সেখানে। ইতোমধ্যে দুইজন মধ্যস্বত্ত্বভোগী ২০০ টাকার বিনিময়ে সবকাজ করে দেবেন বলে প্রস্তাব দিতে থাকলো! কিন্তু আমি তাদের সে প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকলাম। তারপর স্ক্যানার দরজা […]

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ অভিবাসীদের বিপদ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে করা অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচি বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ডাকা’ বা ‘ড্রিমার’ নামে পরিচিত এই প্রকল্প বাতিল করার নির্বাচনী অঙ্গীকারও ছিল ট্রাম্পের। অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস ৫ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্পের অবসান ঘোষণা করেন। এর ফলে বারাক ওবামার সময়ে নেয়া ‘ডেফারড অ্যাকশান ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ বা ‘ডাকা’ নামের প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলো। ফলে দুই বছর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হবার পর কাজ বা পড়ালেখার সুযোগ হারাবে অন্তত আট লাখ অভিবাসী তরুণ। পাঁচ বছর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামার চালু করা এই প্রকল্পের আওতায় সুরক্ষা পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় আট লাখ অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসী। যাদের বেশিরভাগই এসেছিল ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে। আইনের ফাঁক গলে আসা তরুণদের বিতারণের হাত থেকে রেহাই দিয়ে সেদেশে বসবাস, পড়াশোনা ও ভবিষ্যত […]

চোখের সামনে বদলে গেল সব

সময়টা ১৯৮৩ সাল। আব্বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মা আব্বাকে নিয়ে ঢাকায় যাবেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আমাদের তিন ভাইবোনকে কার কাছে রেখে যাবেন! আমাদের নানী বাড়িতে রাখা যায় কিন্তু বাডিতে অনেক মুরগী আর দুটো গরু আছে, তাদের কি হবে? নানী আমাদের বাড়িতে থাকতে চায় না কারণ নানী বাড়ি ফ্ল্যাট বাসাগুলোর মত সব ঘরের সাথে লাগোয়া আর আমাদের বাড়িটা গ্রামের বাড়ির মত। কুয়োপাড় কলাপাড় একদিকে রান্নাঘর একদিকে গোয়ালঘর মুরগীর ঘর, বিশাল উঠান বাড়ির সামনে আমবাগান পিছনে ডোবা খাল। দু’একদিন থাকা ঠিক আছে দীর্ঘদিন থাকা তার জন্য কষ্টের। তবু নাতীদের কথা ভেবে নানী তার বাডিতে তালা ঝুলিয়ে থাকতে এলেন সমবয়সী দুই খালা ও মামাকে নিয়ে। মা ঢাকায় গেলেন বাবাকে আর ছোট ভাইটাকে নিয়ে যার বয়স তখন দেড় বছর। মামা ও খালারা আসায় […]

হার না মানা রাশেদা

ভয়াবহ নির্যাতন করে পঙ্গু বানিয়ে দিয়েছে স্বামী। তালাকপ্রাপ্ত হয়ে বাপের বাড়ি ফিরে আসার পর আলাদা করা হয়েছে সন্তানদের। ক্রাচে ভর করে বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্ষত–বিক্ষত পঙ্গুত্ব জীবন। তবু জীবনযুদ্ধে হার মানতে রাজি না শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের উত্তর ষাইটকাকড়া গ্রামের মৃত সনু শেখের মেয়ে রাশেদা বেগম। নির্যাতনের ক্ষত মুছে ফেলে জীবনযুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে চান তিনি।  রাশেদা জানান, বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। মা অন্যর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। পার্শ্ববর্তী রহমতপুর গ্রামের তুফানো শেখের ছেলে বাবুল মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা হন তিনি। স্বামী ছিল জুয়াড়ি। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৬০ হাজার টাকা ছাড়াও রাশেদার পরিবার দিয়েছিল নানা আসবারপত্র। এরপরও টাকার জন্য প্রায়ই নির্যাতন করা হতো তাকে।  রাশেদা জানান, প্রায় একবছর […]